আমি পেয়ে সুজন হারালাম
বলনগীতি: পেয়ে ধন হারানোর ব্যথা | মহাধীমান বলন কাঁইজি | আধ্যাত্মিক বিরহের গান (Pain of Losing Treasure)
Bolon Giti | বলন গীতি লিরিক্স | Spiritual Bangla Song Lyrics
রচয়িতা: মহাধীমান বলন কাঁইজি
গ্রন্থ: বলন তত্ত্বাবলী (পৃষ্ঠা নং ৯৮)
বলন গীতি নং: ৬২
English Title: The Pain of Losing the Gained Treasure
ভূমিকা
এই বলন গীতিতে আত্মার গভীর বিরহ ও অনুশোচনার অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে। এখানে “সুজন” বা প্রিয় সত্তাকে হারানোর ব্যথার মাধ্যমে মানুষের আধ্যাত্মিক বিচ্ছিন্নতা ও অন্তর্দহন তুলে ধরা হয়েছে।
বলন গীতি লিরিকস
কপালে সুখ বুঝি নেই সই,
এ দুঃখ কারে কই,
আমি পেয়ে সুজন হারালাম,
একা ঘরে কেমনে রই।
আমি পাপী সুখ বিলাসী,
কাঁধে নিয়ে কর্মফাঁসি,
জীবনভর রই বনবাসী।
কুল কলঙ্ক সব ফেলিয়া,
জাতিতে চুনকালি দিয়া,
কোন কর্মে তাহার হই।।
পেলে আমার জীবনে,
ভজতাম চরণ যতনে,
সুজন বুঝি থাকে নিধুবনে।
তার জন্য উদাসী হব,
তারে বিনা প্রাণ ত্যাজিব,
আমি আর আমার নই।।
বলন কাঁইজি ভেবে বলে,
পথে ঘাটে বন্ধু মিলে,
রসিক মিলে ভাগ্যের ফলে।
হারিয়ে নয়ন মণি,
কাঁদি বসে দিন-রজনী,
প্রাণ হারিয়ে দেহ লই।।
দেহতত্ত্ব ও আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা
এই গানে “সুজন” বলতে অন্তরের সেই পরম সত্তা বা আত্মার সঙ্গীকেই বোঝানো হয়েছে। তাকে পেয়ে হারানো মানে—আত্মজ্ঞান লাভের পর তা ধরে রাখতে না পারা।
“কর্মফাঁসি” মানুষের নিজ কর্মফলের বন্ধনকে নির্দেশ করে, যা তাকে এই দুঃখ ও বিচ্ছিন্নতার মধ্যে ফেলে রাখে।
“নিধুবন” এখানে একটি আধ্যাত্মিক অবস্থার প্রতীক, যেখানে আত্মা ও পরম সত্তার মিলন ঘটে।
এই গানের মূল শিক্ষা হলো—সত্যকে পেয়ে হারানোর যন্ত্রণা সবচেয়ে গভীর, এবং সেই সত্যকে ধরে রাখতে হলে আত্মশুদ্ধি ও ভজন অপরিহার্য।
আধ্যাত্মিক তাৎপর্য
👉 আত্মাকে চিনেও ধরে রাখতে না পারলে দুঃখ অনিবার্য
👉 কর্মফল মানুষের জীবনে বাঁধা সৃষ্টি করে
👉 পরম সত্তার সাথে মিলনই জীবনের আসল উদ্দেশ্য
উপসংহার
“পেয়ে ধন হারানোর ব্যথা” বলনগীতি আমাদের মনে করিয়ে দেয়—জীবনের সবচেয়ে বড় ক্ষতি হলো আত্মার সত্যকে হারিয়ে ফেলা।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন