🌍 মুসলিম জাতির বিভক্তি ও মানবতার আহ্বান

মুসলিম জাতির বিভক্তি ও মানবতার আহ্বান
জয় গুরু আলেক কাঁই

প্রিয় বিশ্ববাসী,


আজ মুসলিম জাতি এক নয় — বরং খণ্ডবিখণ্ড, বিভক্ত এবং দুর্বল।


⚡ বাস্তবতার চিত্র

একটি পরিবারে যদি ৫ ভাই একসাথে থাকে — তারা শক্তিশালী হয়।  

কিন্তু আলাদা হয়ে গেলে — তারা দুর্বল হয়ে পড়ে।


আজ মুসলিম উম্মাহর অবস্থা ঠিক সেই ভাঙা পরিবারের মতো।


বিভক্তির রূপ! 

  • শিয়া – সুন্নি
  • মাজহাব – নামাজহাব
  • দল – উপদল
  • তরিকা – ফেরকা

  • একই কোরআন, একই নবী (সা.), একই কালেমা — তবুও আমরা এক হতে পারিনি।


    📜 ইতিহাসের বাস্তবতা


    ইতিহাস প্রমাণ করে — ক্ষমতা ও স্বার্থের জন্য জাতিকে বিভক্ত করা হয়েছে।


    • মধ্যপ্রাচ্যের কৃত্রিম সীমান্ত তৈরি
    • ধর্মের ভিত্তিতে দেশ বিভাজন
    • যুদ্ধের মাধ্যমে রাষ্ট্র ধ্বংস

    • বিভক্তি কখনো হঠাৎ হয় না — এটি পরিকল্পিত।


      🌐 বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতা


      আজ আমরা দেখি —


      • মুসলিম দেশ মুসলিম দেশের বিরুদ্ধে
      • ক্ষমতার জন্য অমুসলিম শক্তির সাথে জোট
      • মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা ও যুদ্ধ

      • ঐক্য হারালে শক্তি হারায়।


        বিভক্তির মূল কারণ! 


        • ক্ষমতার লোভ
        • অর্থনৈতিক স্বার্থ
        • জ্ঞান ও শিক্ষার অভাব
        • সংকীর্ণ চিন্তাধারা


        • 💔 ধর্ম যখন ব্যবসা হয়ে যায়


          যখন ধর্ম দিয়ে রাজনীতি করা হয়,  
          যখন ধর্ম দিয়ে বিভাজন করা হয় —  
          তখন মানুষ আর মানুষ থাকে না।


          💡 সমাধান: মানবতা


          মানুষ আগে — ধর্ম পরে  
          কারো ক্ষতি না করাই প্রকৃত ধর্ম

          আমরা যদি সত্যিকারের মানুষ হই —  
          তাহলে বিভাজন নয়, ঐক্য তৈরি হবে।



          🤝 পুনর্জাগরণের পথ


          • ঐক্য
          • মানবতা
          • বাস্তবমুখী শিক্ষা
          • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
          • পারস্পরিক সম্মান


          • 🕊️ বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান


            আমরা কি বিভক্ত থাকবো?  
            নাকি এক হবো?


            আমরা কি ঘৃণা ছড়াবো?  
            নাকি ভালোবাসা ছড়াবো?



            “মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান —  
            এসব পরিচয়ের আগে আমরা মানুষ।


            মানুষ যদি বাঁচে — ধর্ম বাঁচবে।

            মানবতা থাকলে — বিশ্ব বাঁচবে।”

            💝ধর্ম নয় — মানবতাই আমাদের আসল পরিচয় 🙏

            কলিমুল্লাহ হক



            পাগল দেখি পাগলের মাস্টার

            বলন গীতি: এক পাগল আরেক পাগলের মাস্টার | মহাধীমান বলন কাঁইজি | আধ্যাত্মিক ও দার্শনিক গান (A Crazy is the Teacher of Another Lunatic)
            বলন কাঁইজির লেখা গান
            রচয়িতা: মহাধীমান বলন কাঁইজি
            গ্রন্থ: বলন তত্ত্বাবলী (পৃষ্ঠা নং ৩৭৮)
            গীতি নং: ২৮
            অধ্যায়: দ্বিতীয় অধ্যায়
            English Title: A Crazy is the Teacher of Another Lunatic


            নির্মাণের সময় ও স্থান: ভাড়া বাসা, ঋষিপাড়া, পূর্ব জুরাইন, শ্যামপুর, ঢাকা


            ভূমিকা

            এই গানে অন্ধবিশ্বাস, ছলনাপূর্ণ আচার এবং সমাজে প্রচলিত ভ্রান্ত ধর্মচর্চাকে প্রতীকীভাবে তুলে ধরা হয়েছে।  
            ভক্তি ও জ্ঞানহীন অনুসরণকে “পাগল” এবং তার নেতা বা শিক্ষককে “পাগলের মাস্টার” হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।


            বলন গীতি লিরিকস


            পাগল দেখি পাগলের মাস্টার,
            ছেঁড়া তার সব জোড়া দিয়ে,
            বাজায় বসে ট্র্যাঞ্জিস্টার।


            দেখাদেখি গড়ে ধর্মালয়,
            তারা গনে দিন বারোটায়,
            মুখের দ্বারা সাগর শুকায়,
            চাটাম মারাই সারাসার।


            অনুমানের ঘোড়ায় চড়ে,
            মথুরা মদিনায় ঘুরে,
            বিমান যোগে আকাশে উড়ে,
            চেনে না যম দুয়ার।


            শোনে তোতার শাস্ত্র বুলি,
            অন্ধবিশ্বাসে আরো ওঠে ফুলি,
            বলন কয় শূন্য ঝুলি,
            লাটে উঠেছে কারবার।


            আধ্যাত্মিক ও দার্শনিক ব্যাখ্যা


            গানটি সামাজিক ও আধ্যাত্মিক সচেতনতার বার্তা দেয়।  
            “এক পাগল আরেক পাগলের মাস্টার” আমাদের শিখায় যে, অন্ধবিশ্বাস ও অযৌক্তিক আচার অনুসরণ কেবল ভ্রান্ত পথে নিয়ে যায়।  
            ভক্তি ও সাধনার জন্য জ্ঞান, বুদ্ধি এবং অন্তরের স্বচ্ছতা অপরিহার্য।


            বলন কাঁইজি সতর্ক করে যে, শুধুমাত্র নির্দিষ্ট নিয়ম বা কৌশল অনুসরণ করা যথেষ্ট নয়—সত্যিকারের প্রজ্ঞা ও চিন্তা ছাড়া সাধনা ফলপ্রসূ হয় না।


            উপসংহার


            এই গান আমাদের শেখায়—ভক্তি ও জ্ঞান কখনো অন্ধভাবে অনুসরণ করা উচিত নয়। প্রকৃত শিক্ষা আসে চিন্তা, জ্ঞান এবং অন্তরের স্বচ্ছতার মাধ্যমে।





            সখী জলকে চল জলকে চল

            বলন গীতি: গোকুলে জল আনতে যাওয়া | মহাধীমান বলন কাঁইজি | আধ্যাত্মিক প্রেম ও শ্যামের লীলা (Going to Bring Water at the Gokul)
            বলন গীতি
            রচয়িতা: মহাধীমান বলন কাঁইজি
            গ্রন্থ: বলন তত্ত্বাবলী (পৃষ্ঠা নং ৩৯১)
            গীতি নং: ৪১
            অধ্যায়: দ্বিতীয় অধ্যায়
            English Title: Going to Bring Water at the Gokul


            নির্মাণের সময় ও স্থান: ভাড়া বাসা, পশ্চিম জুরাইন, শ্যামপুর, ঢাকা


            ভূমিকা

            এই গানে রাধা ও শ্যামের লীলা আধ্যাত্মিক প্রেমের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। শ্যামের উপস্থিতি, প্রেমের উত্সাহ এবং ভক্তির আনন্দ সবই এখানে প্রকাশিত হয়েছে।


            বলন গীতি লিরিকস


            সখী জলকে চল জলকে চল,
            জলকে চল গোকুলে,
            শ্যামের বাঁশি বাজে বাজেরে,
            রাধা রাধা বলে।


            কুঞ্জবনে মধুর হাঁড়ি,
            পায়ের নিচে গড়াগড়ি,
            মধু খেয়ে উজাড় করি,
            শূন্য হাঁড়ি যায় ফেলে।


            শ্যাম এলে নিধুবনে,
            আয়ন তারে শত্রু জানে,
            শ্যাম বিনা এ ব্রজধামে,
            গমনে কী ছাই মিলে।


            বলন কয় যার শ্যাম জ্বালা,
            সে কী গোণে জপমালা,
            দিবা-নিশি রয় উতলা,
            প্রেমের মালা নেয় গলে।


            আধ্যাত্মিক ও দার্শনিক ব্যাখ্যা


            “গোকুলে জল আনতে যাওয়া” লীলা ও প্রেমের মাধুর্যকে আধ্যাত্মিক প্রতীক হিসেবে তুলে ধরে।  
            শ্যামের উপস্থিতি প্রেম ও ভক্তির উত্সাহ বৃদ্ধি করে, এবং ভক্তের জীবনে আনন্দ ও চৈতন্যের সূচনা করে।


            “বলন কয় যার শ্যাম জ্বালা”—যে ভক্ত হৃদয়ে শ্যামের প্রতি পূর্ণ প্রেম ও নিবেদন রাখে, সে দ্যা জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে প্রেম ও সাধনায় পরিপূর্ণ করতে পারে।


            উপসংহার


            “গোকুলে জল আনতে যাওয়া” বলনগীতি আমাদের শেখায়—ভক্তি, প্রেম এবং লীলার আনন্দ অন্তরের চেতনার আলো জ্বালায় এবং জীবনের সঠিক দিশা দেখায়।





            মনে চাই মনে চাই গো, রাধার ঘাটে নাও ভিড়াতে

            বলনগীতি: রাধার প্রেমের ঘাট | মহাধীমান বলন কাঁইজি | আধ্যাত্মিক প্রেম ও রাধার লীলা (Radha's Love Ghat)
            বলন গীতি
            রচয়িতা: মহাধীমান বলন কাঁইজি
            গ্রন্থ: বলন তত্ত্বাবলী (পৃষ্ঠা নং ৩৮৫)
            গীতি নং: ৩৫
            অধ্যায়: দ্বিতীয় অধ্যায়
            English Title: Radha's Love Ghat


            নির্মাণের সময় ও স্থান: ভাড়া বাসা, মুসলিম নগর, মাতুয়াইল, ডেমরা, ঢাকা


            ভূমিকা

            এই গানে রাধার প্রেম ও লীলা আধ্যাত্মিক দৃষ্টিতে তুলে ধরা হয়েছে। প্রেমের গভীরতা, আনন্দ ও ত্যাগকে প্রতীকীভাবে রাধার ঘাটের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে।


            বলন গীতি লিরিকস


            মনে চাই মনে চাই গো,
            রাধার ঘাটে নাও ভিড়াতে,
            এমন নাগরী যে দেখেছে,
            মন দিয়েছে ঐ রূপেতে।


            বিজলি ঘেরা, নবীন গোরা,
            পিছল সে ঘাট রসে ভরা,
            ধরতে গেলে দেয় না ধরা,
            তবু কতজন যায় মরতে।


            হাঁটে থমকে, গিলে চুমুকে,
            মিঠে ভরা সারা মুখে,
            নরবলি দেয় গো সুখে,
            কেউ পারে না বাঁচতে।


            বলনের বচন, শোন মন,
            মরার আগে মরে যেজন,
            বিরজা নালে হয় না মরণ,
            কেবল সেই পারে বাঁচতে।


            আধ্যাত্মিক ও দার্শনিক ব্যাখ্যা


            রাধার ঘাটের দৃশ্য আধ্যাত্মিক প্রেম ও লীলার প্রতীক। যেখানে প্রেমের আনন্দ, ত্যাগ এবং ধৈর্য একত্রে বিকশিত হয়।


            “বলনের বচন, শোন মন”—এই লাইনটি ভক্তিকে নির্দেশ করে যে, সত্যিকারের প্রেম ও সাধনা শুধুমাত্র হৃদয়ের সম্পূর্ণ নিবেদন থেকে হয়।
            যে ব্যক্তি অন্তরের গভীরভাবে প্রেম ও লীলার সঙ্গে যুক্ত থাকে, সে প্রকৃত আনন্দ ও মুক্তি পায়।


            উপসংহার


            “রাধার প্রেমের ঘাট” বলনগীতি শেখায়—আধ্যাত্মিক প্রেম ও লীলা অনুধাবনের জন্য ধৈর্য, মনন এবং অন্তরের নিবেদন অপরিহার্য।





            আজ নিশি বাহিরে কাটাও - শ্যাম রায়

            বলনগীতি: আজ নিশি বাহিরে কাটানো | মহাধীমান বলন কাঁইজি | আধ্যাত্মিক প্রেম ও লীলার গান (Spend the Night Outside)
            রচয়িতা: মহাধীমান বলন কাঁইজি
            গ্রন্থ: বলন তত্ত্বাবলী (পৃষ্ঠা নং ৩৫২)
            বলন গীতি নং:
            English Title: Spend the Night Outside


            নির্মাণের সময় ও স্থান: ২৮/০৪/২০১৮ (ছিদ্দিক বাজানের বাড়ি; ফায়েদাবাদ; উত্তরা; ঢাকা)


            ভূমিকা

            এই বলন গীতে প্রেম ও আধ্যাত্মিক লীলার অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে। এখানে প্রভু ও ভক্তের সম্পর্ককে আধ্যাত্মিক প্রেমের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রেম, অনুরাগ ও ভক্তি একসাথে গাইড করে অন্তরের যাত্রা।


            বলন গীতি লিরিকস


            আজ নিশি বাহিরে কাটাও (শ্যাম রায়),
            বাতায়নে নক না করে ফিরে যাও,
            ফিরে যাও ফিরে যাও।


            কোন মায়াবীর ছলানায় ভুলে,
            কোনবা ফুলে ঘুমিয়ে ছিলে,
            কেন এতো দেরি করলে,
            সেই কথা রাধাকে জানাও।


            লীলার পাগল লীলার তাড়না,
            লীলার জন্য করো ছলনা,
            লীলা ছাড়া প্রেম বোঝ না,
            তাই বুঝি আমায় কাঁদাও।


            আমি তোমার দাসের দাসী,
            হাজার বছর চেয়ে আছি,
            বলন কয় আজও কাছাকাছি,
            তোমায় না পেলাম তাও।


            আধ্যাত্মিক ও দার্শনিক ব্যাখ্যা


            এই গানে “লীলা” দ্বারা প্রভুর আধ্যাত্মিক খেলাকে বোঝানো হয়েছে। প্রেমের মধ্যে ধৈর্য, অপেক্ষা ও অনুরাগই ভক্তের জীবনের মূল শিক্ষার অংশ।


            “আমি তোমার দাসের দাসী” প্রতীকীভাবে ভক্তের সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণকে বোঝায়। যদিও দাসের প্রিয় প্রভু কাছে নেই, তবুও অন্তরের নৈঃসঙ্গিকতা ও অনুরাগ অব্যাহত থাকে।


            মূল শিক্ষা হলো—আধ্যাত্মিক প্রেমে ধৈর্য ও সমর্পণ অপরিহার্য, এবং প্রভুর লীলা সবসময় কাছেই, শুধু মন খুলে অনুধাবন করতে হবে।


            উপসংহার


            “আজ নিশি বাহিরে কাটানো” বলনগীতি আমাদের শেখায়—ভক্তি, প্রেম এবং লীলার অনুভূতি মানুষের অন্তরে চেতনার আলো জ্বালায়, যা জীবনের সঠিক দিশা প্রদর্শন করে।





            কাঁইয়ের বসতবাড়ি নিকটে

            বলন গীতি: কাঁইয়ের বসতবাড়ি নিকটে | মহাধীমান বলন কাঁইজি | আধ্যাত্মিক সাধনা ও ঘরের গান (Kai's Homestead Near)
            রচয়িতা: মহাধীমান বলন কাঁইজি
            গ্রন্থ: বলন তত্ত্বাবলী (পৃষ্ঠা নং ৩৫৪)
            গীতি নং:
            অধ্যায়: দ্বিতীয় অধ্যায়
            English Title: Kai's Homestead Near


            নির্মাণের সময় ও স্থান: ২৮/০৪/২০১৮ (ছিদ্দিক বাজানের বাড়ি, ফায়েদাবাদ, উত্তরা, ঢাকা)


            ভূমিকা

            এই বলনগীতে কাঁইয়ের ঘর বা বসতবাড়িকে আধ্যাত্মিক যাত্রার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। যে ব্যক্তি অন্তরের অন্ধকার ও বাহ্যিক বাধার মধ্য দিয়ে কাঁইয়ের সন্ধান করে, সে মুক্তি ও জ্ঞান লাভ করে।


            বলন গীতি লিরিকস


            এই নিখিল সংসারের মাঝে,
            দূরে নয় কাঁইয়ের বসত বাড়ি,
            সবই আছে অতি কাছে।
            দূরে নয় বৈঠকঘর সাক্ষাতঘর,


            দেহের মাঝে অন্ধকার খাড়ি,
            সেথায় কাঁইয়ের বসত বাড়ি,
            আপন ঘর আপনি গড়ি,
            নীর আকারে বসে আছে।


            সেথায় যেতে তিনটি বাধা,
            সহজে তা যায় না সাধা,
            কেউ কেউ সাধে আধা আধা,
            কিঞ্চিৎ জানতে পারে পাছে।


            বলন কাঁইজি বসে ভনে,
            ওরে মুক্ত জ্ঞানে মুক্ত মনে,
            যে নেমেছে কাঁইয়ের সন্ধানে,
            কাঁইয়ের বাড়ি সে চিনেছে।


            আধ্যাত্মিক ও দার্শনিক ব্যাখ্যা


            “কাঁইয়ের বসতবাড়ি” হলো অন্তরের চেতনার স্থান। সংসারের সব ব্যস্ততার মাঝেও এই স্থান কাছেই, শুধু মানুষকে নিজের অন্তরে তাকাতে হবে।


            “তিনটি বাধা” প্রতীকী—মানসিক, বাহ্যিক এবং আত্মিক বাধা। যে ব্যক্তি সতর্কভাবে ও নিষ্ঠার সাথে সাধনা করে, সে এই ঘরে পৌঁছায়।


            এই গানের মূল শিক্ষা হলো—মুক্তি ও জ্ঞান অন্তরে উপলব্ধ, বাহ্যিক খোঁজ বা দূরত্ব নয়। কাঁইয়ের সন্ধান মানে নিজের চেতনা ও অন্তরের সত্যকে জানা।


            উপসংহার


            “কাঁইয়ের বসতবাড়ি নিকটে” বলনগীতি আমাদের শেখায়—মুক্তি ও সত্যের সন্ধান সবসময় কাছেই, শুধু অন্তরের দৃষ্টি খুলে দেখতে হবে।





            সাগর পাড়ে জন্ম আমার

            মহাধীমান বলন কাঁইজি | আধ্যাত্মিক জলতত্ত্ব ও সাধনা (The Water Message)

            বলন গীতি

            রচয়িতা: মহাধীমান বলন কাঁইজি
            গ্রন্থ: বলন তত্ত্বাবলী (পৃষ্ঠা নং ৩২৬)
            বলন গীতি নং: ২৮৯
            English Title: The Water Message


            ভূমিকা

            এই বলনগীতে জলকে আধ্যাত্মিক সাধনার প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। মানুষের জীবন, সাধনা এবং অন্তরের তৃষ্ণা—সবই এখানে “জল” দ্বারা প্রতীকীভাবে প্রকাশিত হয়েছে।


            বলন গীতি লিরিকস


            সাগর পাড়ে জন্ম আমার,
            সাগরে আনাগোনা,
            সারা জীবন জল খুঁজলাম,
            চোখে দেখলাম না।


            জলের বুকে করি বসবাস,
            জলই বৈরী জলই সর্বনাশ,
            জলের তৃষ্ণায় হয় প্রাণনাশ,
            জলের সন্ধান পেলাম না।


            যে জলে এ তরী চলে,
            সাধু মতে অমৃতসুধা বলে,
            তারে সদাই অবহেলে,
            জল সাধনা হলো না।


            জলের নৌকা বায়ুর বৈঠা,
            গোপনে সেই জলের কোঠা,
            বলন কয় জল বার্তা,
            জল ছাড়া কল চলে না।


            আধ্যাত্মিক ও দার্শনিক ব্যাখ্যা


            “জল” এখানে আত্মার তৃষ্ণা ও চৈতন্যের প্রতীক। মানুষ জীবনজুড়ে সত্য ও জ্ঞান খুঁজে বেড়ায়, কিন্তু যখন সে তা অমনোযোগে খোঁজে, তখন চূড়ান্ত সত্যকে সে পায় না।


            “জলের নৌকা” আধ্যাত্মিক যাত্রার প্রতীক। বায়ু বা বাহ্যিক জ্ঞান দ্বারা নৌকা চললেও, মূল জ্ঞান ও তৃষ্ণা পূরণের জন্য অন্তরের গভীর সাধনা অপরিহার্য।


            এই গানের মূল শিক্ষা হলো—জল বা সত্যের সন্ধান ছাড়া জীবনের কল্যাণ সম্ভব নয়। অন্তর্দৃষ্টি ও সাধনাই মানুষের জীবনের মূল দিশা।


            উপসংহার


            “জল বার্তা” বলনগীতি আমাদের শেখায়—জীবনের যাত্রায় চেতনার জলের সন্ধান আবশ্যক। যে জলের সন্ধান ছাড়া জীবন, সে জীবন অপ্রাপ্ত ও শূন্য।





            স্বভাব বিতরণ (ফিতরা)

            বলনগীতি: স্বভাব (ফিতরা) | মহাধীমান বলন কাঁইজি | আধ্যাত্মিক শিক্ষা ও নৈতিক গান (Disposition / Nature)

            বলন গীতি

            রচয়িতা: মহাধীমান বলন কাঁইজি

            গ্রন্থ: বলন তত্ত্বাবলী (পৃষ্ঠা নং ২২৭)

            বলন গীতি নং: ১৯১

            English Title: Disposition (Nature)


            ভূমিকা

            এই বলন গীতে ফেতরা বা স্বভাবের সমতা, নৈতিক বিতরণ এবং সমাজে ন্যায়ের গুরুত্বকে তুলে ধরা হয়েছে। মানুষের জীবনে কেমন আচরণ, স্বভাব ও দায়িত্ব থাকা উচিত—সেটি এখানে নির্দেশিত হয়েছে।


            বলন গীতি লিরিকস


            ফেতরা দাও সবাই সবারে,

            কেউ যেন বাদ না পড়ে,

            করো স্বভাব বিতরণ বিশ্ব চরাচরে।


            সাড়ে তিন হাত পরিমাণ,

            করো সমান গম বিতরণ,

            গমনাগমন; বিবসন গম,

            শুভাশুভ গুণ বিচারে।


            দেহের যত গুণপনা,

            আচার হীনে শেখাও নমুনা,

            সব সাধুগণ; স্বভাব বিতরণ,

            করে এ ভবের পরে।


            ফেতরা হলো স্বভাব আচার,

            সাম্প্রদায়িক গ্রন্থে তাই প্রচার,

            বলন কয়; উপমা হয়,

            শাস্ত্রীয় নিগূঢ় বিচারে।


            আধ্যাত্মিক ও নৈতিক ব্যাখ্যা


            ফেতরা বা স্বভাব এখানে ন্যায় ও সমতার প্রতীক। গম বা সম্পদের সমান বিতরণ মানুষের নৈতিক দায়িত্ব ও স্বাভাবিক দায়িত্ববোধকে নির্দেশ করে।


            “দেহের যত গুণপনা” বলতে মানুষের প্রতিটি গুণ, আচরণ ও স্বভাবকে শৃঙ্খলিতভাবে ব্যবহার করার কথা বলা হয়েছে।


            এই গানের মূল শিক্ষা হলো—নিরপেক্ষ, ন্যায়পূর্ণ ও নৈতিক আচরণের মাধ্যমে সমাজে ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব।


            উপসংহার


            “স্বভাব (ফিতরা)” বলনগীতি আমাদের শেখায়—ফেতরা বা ন্যায়-সংগত আচরণ, সমান বিতরণ ও নৈতিক জীবনই মানবের আধ্যাত্মিক ও সামাজিক উন্নতির মূল চাবিকাঠি।