আর ঘুরো না ঘূর্ণিপাকে

বলনগীতি: আর ঘুরো না ঘূর্ণিপাকে | মহাধীমান বলন কাঁইজি | আধ্যাত্মিক প্রেমতত্ত্বের গান (Whirlpool)

বলন গীতি 

রচয়িতা: মহাধীমান বলন কাঁইজি

গ্রন্থ: বলন তত্ত্বাবলী (পৃষ্ঠা নং ৭০)

বলন গীতি নং: ৩৪ (ঘূর্ণিপাক)

English Title: Whirlpool


ভূমিকা

এই বলনগীতিতে জীবনের “ঘূর্ণিপাক” বা মায়ার ঘূর্ণাবর্ত থেকে বের হয়ে সত্য ও বিধাতাকে উপলব্ধি করার পথ দেখানো হয়েছে। এখানে প্রেমতত্ত্ব, দেহতত্ত্ব ও আধ্যাত্মিক সাধনার এক গভীর সমন্বয় ফুটে উঠেছে।


বলনগীতি লিরিকস


আর ঘুরো না ঘূর্ণিপাকে,

ধরবে যদি বিধাতাকে।


পঞ্চবাণের হেতু কৌশলে,

প্রেম অস্ত্রে কাটো ছিলে,

জানো ষোলকলার ভেদ নিরলে,

সেই বিধাতা পড়বে পাকে।


ধরবে যদি মানুষ নিধি,

আগে ধরো দ্বি পদী বায়ুনদী,

গুরু রূপে নয়ন বাঁধি,

রস বিহারী করো নিজেকে।


কেবল ঊষা ও অর্যমা লীলা,

জোয়ার চেনে ভাসাও ভেলা,

খেলো দ্বি দলে অটল খেলা,

বলন কয় প্রেমনদীতে।


দেহতত্ত্ব ও আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা


এই গানে “ঘূর্ণিপাক” বলতে সংসারের মায়া ও আসক্তির চক্রকে বোঝানো হয়েছে। মানুষ এই ঘূর্ণিতে ঘুরতে থাকে এবং সত্যকে উপলব্ধি করতে পারে না।


“পঞ্চবাণ” কাম ও ইন্দ্রিয়ের প্রতীক, যা মানুষকে বেঁধে রাখে। এখানে বলা হয়েছে—প্রেমই সেই অস্ত্র, যা দিয়ে এই বন্ধন কাটা সম্ভব।


“দ্বি পদী বায়ুনদী” দেহের সূক্ষ্ম নাড়ি ও প্রাণশক্তির প্রতীক। “গুরু রূপে নয়ন বাঁধি” অর্থ—গুরুর দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করে আত্মজ্ঞান অর্জন করা।


এই গানের মূল শিক্ষা হলো—নিজেকে পরিশুদ্ধ করে প্রেমের মাধ্যমে আত্মাকে জাগ্রত করলে বিধাতাকে উপলব্ধি করা সম্ভব।


উপসংহার


“আর ঘুরো না ঘূর্ণিপাকে” বলনগীতি আমাদের শেখায়—মায়ার ঘূর্ণাবর্ত থেকে বের হয়ে প্রেম ও আত্মজ্ঞান অর্জনের মাধ্যমেই জীবনের প্রকৃত লক্ষ্য পূরণ করা যায়।





কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন