স্বভাব বিতরণ (ফিতরা)

বলনগীতি: স্বভাব (ফিতরা) | মহাধীমান বলন কাঁইজি | আধ্যাত্মিক শিক্ষা ও নৈতিক গান (Disposition / Nature)

রচয়িতা: মহাধীমান বলন কাঁইজি

গ্রন্থ: বলন তত্ত্বাবলী (পৃষ্ঠা নং ২২৭)

বলন গীতি নং: ১৯১

English Title: Disposition (Nature)


ভূমিকা

এই বলন গীতে ফেতরা বা স্বভাবের সমতা, নৈতিক বিতরণ এবং সমাজে ন্যায়ের গুরুত্বকে তুলে ধরা হয়েছে। মানুষের জীবনে কেমন আচরণ, স্বভাব ও দায়িত্ব থাকা উচিত—সেটি এখানে নির্দেশিত হয়েছে।


বলন গীতি লিরিকস


ফেতরা দাও সবাই সবারে,

কেউ যেন বাদ না পড়ে,

করো স্বভাব বিতরণ বিশ্ব চরাচরে।


সাড়ে তিন হাত পরিমাণ,

করো সমান গম বিতরণ,

গমনাগমন; বিবসন গম,

শুভাশুভ গুণ বিচারে।


দেহের যত গুণপনা,

আচার হীনে শেখাও নমুনা,

সব সাধুগণ; স্বভাব বিতরণ,

করে এ ভবের পরে।


ফেতরা হলো স্বভাব আচার,

সাম্প্রদায়িক গ্রন্থে তাই প্রচার,

বলন কয়; উপমা হয়,

শাস্ত্রীয় নিগূঢ় বিচারে।


আধ্যাত্মিক ও নৈতিক ব্যাখ্যা


ফেতরা বা স্বভাব এখানে ন্যায় ও সমতার প্রতীক। গম বা সম্পদের সমান বিতরণ মানুষের নৈতিক দায়িত্ব ও স্বাভাবিক দায়িত্ববোধকে নির্দেশ করে।


“দেহের যত গুণপনা” বলতে মানুষের প্রতিটি গুণ, আচরণ ও স্বভাবকে শৃঙ্খলিতভাবে ব্যবহার করার কথা বলা হয়েছে।


এই গানের মূল শিক্ষা হলো—নিরপেক্ষ, ন্যায়পূর্ণ ও নৈতিক আচরণের মাধ্যমে সমাজে ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব।


উপসংহার


“স্বভাব (ফিতরা)” বলনগীতি আমাদের শেখায়—ফেতরা বা ন্যায়-সংগত আচরণ, সমান বিতরণ ও নৈতিক জীবনই মানবের আধ্যাত্মিক ও সামাজিক উন্নতির মূল চাবিকাঠি।





কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন