বইটি রচনার উদ্দেশ্য
সারাবিশ্বের প্রত্যেক মানুষের অন্যান্য জ্ঞানার্জনের আগে দিব্যজ্ঞান অর্জন প্রয়োজন। দিব্যজ্ঞান ব্যতীত কেবল বিধান, বিচার, অস্ত্র ও শাসন দ্বারা মানুষের পশুত্ব দূর করে মনুষ্যত্ব প্রতিষ্ঠা করা যায় না। দিব্যজ্ঞান ব্যতীত সমাজে দানব উৎপাদনের পরিবর্তে মানব উৎপাদন করা যায় না। পৃথিবীর যে দেশে দিব্যজ্ঞানী মানুষের সংখ্য যতোধিক: সে দেশে সৎ মানুষের সংখ্যাও ততোধিক। ঠিক বিপরীত ক্রমে যে দেশে দিব্যজ্ঞানী মানুষের সংখ্যা যতো কম: সে দেশে সৎ মানুষের সংখ্যাও তত কম: সে দেশে অসৎ ও দানব প্রকৃতির মানুষের সংখ্যাও ততো বেশি। কিন্তু দানবীয় প্রকৃতির মানুষের মননশীলতা পরিবর্তন করে মানবীয় প্রকৃতির মানুষ গড়তে হলে সমাজের সর্ব স্তরে অবশ্যই দিব্যজ্ঞান প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এককথায়; সমাজে মানবতা/ মানবিকতা প্রতিষ্ঠা করার জন্য দিব্যজ্ঞানের বিকল্প নেই।
লেখক সম্পর্কে কিছু কথা :
মহাধীমান বলন কাঁইজির আধ্যাত্মিক পুস্তক প্রণয়ণের মধ্যে বাংলা ভাষার যে প্রাঞ্জলতা ফুটে উঠেছে। তা-ই প্রমাণ করে যে। তিনি ছিলেন একজন ভাষা-সৈনিক। তাঁর নির্মিত পুস্তক-পুস্তিকার কোথাও বিদেশী ভাষার ব্যবহার দেখা যায় না। তিনিই স্মরণকালের ইতিহাস বিখ্যাত আধ্যাত্মিক অভিধান আবিষ্কার করেন। এছাড়াও। তিনি প্রায় অর্ধশত আধ্যাত্মিক সূত্রও আবিষ্কার করেন। এজন্যই। তাঁকে আধ্যাত্মিক বিজ্ঞানের জনক বলা হয়। কারণ, তাঁর পূর্বে বাংলা ভাষায় আধ্যাত্মিক বিজ্ঞানে উল্লেখযোগ্য তেমন কিছুই ছিল না। সাম্প্রদায়িক ও পারস্পরিক মতবাদও ছিল অচেনা ও অজানা। যারফলে। শাস্ত্রীয় ঠাক-পুরুৎ ও মোল্লা-মুন্সিরা যে যা বলতো মানুষকে তাই মেনে নিতে হতো। কিন্তু তাঁর নিরলস গবেষণায় আধ্যাত্মিক সূত্র, পৌরাণিক পরিভাষার মূলক উদঘাটন, পৌরাণিক সংখ্যার দেহতাত্ত্বিক ব্যুৎপত্তি বের করার পদ্ধতি আবিষ্কার হওয়ার পরঃ সাম্প্রদায়িক-পারম্পরিক শাস্ত্রীয় ও পৌরাণিক গল্পকাহিনী যাচাইবাছাইয়ের দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন